জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ:

ঐতিহাসিক নে টং পাহাড়ের ওপর দিয়ে দেশের সর্বদক্ষিণে চলে গেছে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক। সীমান্ত শহর টেকনাফে যেতে হলে সুউচ্চ নে টং পাহাড়ের এই উঠনি পাড়ি দিতে হয়। দেশের সর্বদক্ষিণে যাওয়ার বিকল্প সড়ক না থাকায় নে টং পাহাড়ের উঠনির গুরুত্ব ও পরিচিতি রয়েছে দেশজুড়ে।

জানা গেছে, দেশ বিভাগের আগে ১৯৬১ সালে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের বালুখালী-ঘুমধুম থেকে টেকনাফ পর্যন্ত অংশ নির্মাণ করা হয়। এ সড়ক নির্মাণের পর দেশের স্থলভাগের সঙ্গে কক্সবাজার-টেকনাফের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

চলতি বর্ষা মৌসুমে দেশের সর্বদক্ষিণে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সড়ক কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের নে টং পাহাড়ের উঠনির দুই পাশে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে সি-ওয়ালসহ আধুনিক ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না করা হলে তা দিন দিন আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। এতে যান চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষের দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কটি দুই লেনে উন্নীত করা হয়। একই সময়ে দীর্ঘ এই সড়কে নতুন করে সংস্কারকাজও করা হয়। সংস্কারকাজের সময় ঝুঁকি ও দুর্ঘটনা এড়াতে এবং যান চলাচলের সুবিধার্থে নে টং পাহাড়ের সড়কটি কিছুটা ঢালু করে সংস্কার করা হয়। ঢালু ও প্রশস্ত হওয়ায় নে টং পাহাড়ের উঠনি দিয়ে যান চলাচলে সুবিধা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনাও অনেকাংশে কমেছে বলে জানিয়েছেন যানবাহন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বর্ষা মৌসুমে নে টং পাহাড় দিয়ে চলে যাওয়া কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উভয় পাশে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এতে যান চলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

যদিও সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ভাঙন রোধে কাজ করছে, তবে স্থানীয়দের কাছে তা অপ্রতুল বলে মনে হচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলতে সওজের কর্মীদের কাজ করতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে দুই দফায় জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এতে ভাঙন পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। তাদের মতে, এত বড় ও গভীর ভাঙন শুধু জিও ব্যাগ দিয়ে ঠেকানো কঠিন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নে টং পাহাড়ের উঠনির দুই পাশে বড় অংশ ভেঙে যাচ্ছে। দিন দিন ভাঙন আরও বড় হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

ভাঙন ঠেকাতে নিয়োজিত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নে টং পাহাড়ের উঠনির উত্তর-পূর্ব পাশে প্রায় ৪০ ফুট এবং দক্ষিণ-পূর্ব পাশে প্রায় ১২০ ফুট পর্যন্ত রাস্তা ভেঙে গেছে। তারা আরও জানান, উভয় পাশের ভাঙন অংশের গভীরতা ১০০ ফুটেরও কম নয়।

টেকনাফ সাংবাদিক সমিতির (টেসাস) সভাপতি মমতাজুল ইসলাম মনু জানান, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের নে টং পাহাড়ের উঠনি নামক স্থানটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উভয় দিকে উঁচু ও ঢালু হওয়ায় এই পাহাড় দিয়ে যাতায়াত করা বেশ বিপজ্জনক। নে টং পাহাড়ের উঠনি এলাকায় অতীতেও একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তিনি নে টং পাহাড়ের ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে সি-ওয়ালসহ টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

হ্নীলা আল ফালাহ একাডেমির প্রিন্সিপ্যাল, রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী অধ্যক্ষ নুরুল হোছাইন ছিদ্দিকী জানান, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের নে টং পাহাড়ের অংশটি এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কের ওই অংশে প্রশস্ততা কম এবং নিচের ভিত্তি নদীগর্ভে দিন দিন ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।

তিনি পাহাড় কেটে সড়ক আরও প্রশস্ত করার পাশাপাশি নে টং পাহাড়ের ভেতর দিয়ে একটি টানেল নির্মাণের দাবি জানান। তিনি বলেন, টানেল নির্মিত হলে যোগাযোগ যেমন সহজতর হবে, তেমনি পর্যটনশিল্পেরও নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার রুকুন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী বলেন, টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের নে টং পাহাড়ের উঠনি নামক স্থানে ভয়াবহ ভাঙন রোধে সি-ওয়ালের মতো টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ওই পরিকল্পনার আলোকে ডিজাইনের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানান সওজের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী।